আমাদের কার্যক্রম

জ্ঞানের আলোয় রাঙাই ভুবন

জাতি হিসেবে আমরা মুসলিমরা অনেক সময়ই হতাশায় ভুগি। আমরা এই ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছি, ওই ক্ষেত্রে এগোতে পারছি না, নানা সমস্যা-প্রতিবন্ধকতা আমাদের পিছু ছাড়ছে না-ইত্যাদি হাজারো অভিযোগ-আক্ষেপ।

কিন্তু এসকল সমস্যার গোড়াটা যদি একটু তলিয়ে দেখতে চাই, তা হলে দেখা যাবে-পৃথিবীর অন্যান্য জাতি-গোষ্ঠীর সাথে একটা সেক্টরে আমাদের বিস্তর ফারাক রয়েছে। আর সেটা হলো ‘শিক্ষা’।

শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা-গুরুত্ব সকলেই জানি। তারপরও বর্তমান বিশ্বে সর্বজনবিদিত একজন বিশ্বনেতার একটি উক্তি —

Education is the most powerful weapon which you can use to change the world.

তার মানে, শিক্ষা হলো সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র, যা দিয়ে আপনি পৃথিবীকে বদলে দিতে পারেন। আসলেই কি তা-ই নয়? আজ আমরা যেসকল সমস্যার কথা বলে বলে হতাশা প্রকাশ করছি, শিক্ষাই কি সেগুলো দূর করতে পারে না? তা হলে আমাদের বর্তমান অবস্থাকে বদলে দিতে শিক্ষা নামক ‘অস্ত্র’কে আমরা আর কবে ব্যবহার করব? পৃথিবীর অপরাপর জাতিগুলোর দিকে তাকালে পরিষ্কার বোঝা যায়, যেসকল জাতি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছে, তারাই আজ বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, মনস্তাত্ত্বিক দিক-সকল ক্ষেত্রেই তারা বহু-বহুগুণ এগিয়ে।

এখনো যদি আমরা সচেতন না হই, উম্মাহকে গড়ে তোলার প্রকল্পে যদি হাত না দেই, তা হলে আমাদের শত আক্ষেপ বস্তাবন্দি হয়েই পড়ে থাকবে। কোনো দিনই আমরা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারব না বিশ্বমঞ্চে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সবসময়ই ঐক্যের প্রতীক। যেকোনো জাতীয় দুর্যোগ বা বিপর্যয়ে এদেশের সকল মানুষ একে-অপরের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে সামাল দিয়েছেন পরিস্থিতি। প্রাকৃতিক ঝঞ্ঝা যেমন একটি বিপর্যয়, সামষ্টিকভাবে জ্ঞান ও মেধার দিক থেকে পিছিয়ে থাকাও বড় বড় বিপর্যয় ডেকে আনে। জ্ঞানের দৈন্যতা নিয়ে কখনোই একটি জাতি সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে না।

শিক্ষা খাতে চ্যালেঞ্জ

পরিসংখ্যানের মাধ্যমে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রকৃত চিত্র

৭৪.৮০%

সাক্ষরতার হার

৭ থেকে ১৪ বছর বয়সী বাংলাদেশী শিশুদের সাক্ষরতার হার (ব্যানবেইস, ২০২৩)।

৩২.৮৫%

ঝরে পড়ার হার

মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার (উল্লেখিত পরিসংখ্যান অনুসারে)।

হাসানাহ ফাউন্ডেশন ঠিক এই জায়গাটিতে কাজ করতে চায়। ফাউন্ডেশন চায়, দেশের প্রত্যেকটি মানুষ সুশিক্ষায় শিক্ষিত হোক, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করুক আদর্শ মানুষ হিসেবে।

এ-কথা সত্য, সামগ্রিকভাবে এই কাজের দায়িত্ব দেশের সরকারের ওপরই বর্তায়। তারপরও, হাসানাহ ফাউন্ডেশন এক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে ভূমিকা রাখতে চায়। জাগতিক ও নৈতিক শিক্ষার সু-সমন্বয়ের মাধ্যমে উপস্থাপন করতে চায় শিক্ষার আদর্শ মডেল। আর এই লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে বেশকিছু কার্যক্রম ইতোমধ্যে ফাউন্ডেশন কর্তৃক গৃহীত হয়েছে। সেসকল কার্যক্রমের ব্যাপারে আপনাদেরকে সংক্ষেপে অবহিত করছি।

গৃহীত উদ্যোগসমূহ

শিক্ষার আলোয় সমাজ বিনির্মাণে আমাদের বিভিন্ন কার্যক্রম ও প্রকল্প

মক্তব-ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম

মুসলিম কমিউনিটির ঐতিহ্যের অংশ ‘মক্তব’-যা বহু শতাব্দী ধরে শিক্ষাকাঠামোর মৌলিক স্তর (Fundamental Learning Stage) হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। তবে দুঃখজনক ব্যাপার হলো, একজন মুসলিম-শিশুর নৈতিকতা শেখার প্রথম এই সোপানটি আমাদের কাছ থেকে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে।

তবে আপনারা জেনে খুশি হবেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি থেকে হারিয়ে যাওয়া মক্তবভিত্তিক-শিক্ষা-কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে হাসানাহ ফাউন্ডেশন দৃঢ় সচেষ্ট। দেশের প্রতিটি মহল্লায় মক্তব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ফাউন্ডেশন কাজ করে যাচ্ছে।

সিরাহ মিউজিয়াম

সিরাহ মিউজিয়াম এমন একটি প্রজেক্ট, যেখানে রাসূল ﷺ-এর জীবনীকে সহজ, বোধগম্য ও আকর্ষণীয় করে তুলে ধরা হবে। এক্ষেত্রে সিরাতকে উপস্থাপন করা হবে ভৌত মডেল ও ভিজ্যুয়াল উপকরণের সাহায্যে। গবেষণায় দেখা গেছে, ভিজ্যুয়াল উপকরণ ব্যবহারের ফলে শিক্ষার্থীদের তথ্য ধারণক্ষমতা ২৯% থেকে ৪২% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

হাসানাহ ফাউন্ডেশন-এর প্রস্তাবিত মিউজিয়ামে ছোট-বড় কয়েকটি স্কেল মডেল থাকবে। মক্কা-মদীনা, বদর ও উহুদের প্রান্তর-সহ নবিজির স্মৃতি-বিজড়িত ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সকল স্থান বা স্থাপনার স্কেল মডেল দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। সেই সাথে সিরাতকে তুলে ধরা হবে ডিজিটাল কনটেন্ট-এর মাধ্যমে। এ ছাড়াও মিউজিয়ামে সংরক্ষণ করা হবে সিরাহ সম্পর্কিত দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বই ও গবেষণাপত্র।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

হাসানাহ ফাউন্ডেশনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে নির্মিত হবে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-যেখানে দক্ষ ও আন্তরিকতাপূর্ণ শিক্ষক প্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ও উপ-আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে পাঠদান করা হবে। আদর্শবান শিক্ষার্থী তথা আলোকিত সমাজ গড়তে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা আমরা সকলেই জানি। সেই সাথে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক কারিকুলামের মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান। হাসানাহ ফাউন্ডেশন এসব বিষয় নিয়ে কাজ করছে।

দাওয়াহ ও রিসার্চ

হাসানাহ ফাউন্ডেশন-এর দাওয়াহ ও রিসার্চ বিভাগের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে-

  • সেমিনার-ওয়েবিনার: শিক্ষার্থীদের জ্ঞানগত উৎকর্ষতা সাধনের লক্ষ্যে ধারাবাহিক বিরতিতে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার ও ওয়েবিনারের আয়োজন করা হবে।

  • ওয়ার্কশপ: পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তবিক জীবনের জন্য শিক্ষার্থীদেরকে যোগ্য করে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করবে ফাউন্ডেশনের দাওয়াহ ও রিসার্চ বিভাগ। শিক্ষার্থীদেরকে কর্মমুখী জীবন গঠনে উদ্বুদ্ধ করতে প্রদান করা হবে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ। আর সেই লক্ষ্যে, নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হবে বিভিন্ন কর্মশালা।

  • বিভিন্ন কোর্স: ভাষাগত, প্রযুক্তিগত ও ধর্মীয় সেক্টরে নানামুখী জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করবে দাওয়াহ ও রিসার্চ বিভাগ। চালু করা হবে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন কোর্স।

  • হজ্জ ও উমরাহ প্রশিক্ষণ কর্মশালা: হজ্জ ও ওমরাহর মতো গুরুত্বপূর্ণ দুটি ইবাদাত হাজীগণ যেন সঠিক ও তুলনামূলক সহজভাবে সম্পাদন করতে পারেন, সে-লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

  • গবেষণা-প্রকল্প: হাসানাহ ফাউন্ডেশনের একাডেমিক কার্যক্রমকে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন গবেষণা-প্রকল্প চালু করা হবে। এ ছাড়া দেশীয় বা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উম্মাহর নানান সংকট বা সম্ভাবনায় ইসলাম কীভাবে ভূমিকা পালন করতে পারে-কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে তা খতিয়ে দেখা হবে। পরবর্তীতে দাওয়াহ ও রিসার্চ বিভাগের তত্ত্বাবধানে সেসকল গবেষণালব্ধ জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া হবে গোটা উম্মাহর মাঝে।

শিক্ষাবৃত্তি

সন্তানকে নিয়ে একরাশ স্বপ্ন থাকলেও, দরিদ্রতার কাছে হার মানতে হয় এদেশের বহু মা-বাবাকে। অভাব-অনটনের সংসারে শিশুদের শিক্ষার ব্যাপারটি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত, কখনো-বা একেবারেই অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। তবে, দারিদ্র্যের শিকার হয়ে সম্ভাবনাময় কোনো শিশু যেন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়, সে-মহতী লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরিকর হাসানাহ ফাউন্ডেশন।

সম্পন্ন কার্যক্রম

আমাদের বাস্তবায়িত কার্যক্রম এবং সেগুলোর প্রভাব

শিক্ষা-সহায়ক উপকরণ বিতরণ

স্থান: মারকাজুল কুরআন মাদ্রাসা, বার পাইকের গড়, হাট শ্যামগঞ্জ , ঘোড়াঘাট, দিনাজপুরট | তারিখ: ০৬ ডিসেম্বর, ২০২৫

শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এবং সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৫ ই ফেব্রুয়ারি দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ‘বার পাইকের গড়’ গ্রামে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করে হাসানাহ ফাউন্ডেশন।

এতে উপজেলার ‘বার পাইকের গড়’ গ্রামের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে বছরব্যাপী প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাইতুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদ বগুড়া’র সম্মানিত খতিব, মুফতি মনোয়ার হোসেন (হাফি.)। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। 

প্রোগ্রামে উপস্থিত সুধীজন ও শিক্ষকবৃন্দ হাসানাহ ফাউন্ডেশনের এই মহতী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে এ ধরনের কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।  

উল্লেখ্য, শিক্ষাকে সহজলভ্য করে শিক্ষার আলো দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে দিয়ে একটি আদর্শবান সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখে হাসানাহ ফাউন্ডেশন। সেই লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

শিক্ষা-সহায়ক উপকরণ বিতরণ

স্থান: তেলিগাতি, হেরমা বাজার, কুমারিয়াজোলা, মিস্ত্রীডাঙ্গা, দেবরাজ মাদারদিয়া, মোড়েলগঞ্জ, বাগেরহাট | তারিখ: ০৬ ডিসেম্বর, ২০২৫

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত কিছু গ্রাম—তেলিগাতি, হেরমা বাজার, কুমারিয়াজোলা, মিস্ত্রীডাঙ্গা, দেবরাজ ও মাদারদিয়া। দক্ষিণাঞ্চলের এই জনপদগুলোতে শিক্ষার আলো পৌঁছানোর পথে প্রধান অন্তরায় দারিদ্র্যতা। জীবন সংগ্রামের কঠিন বাস্তবতায় অনেক বাবা-মা সন্তানদের স্কুল-মাদরাসায় পাঠাতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন, যার ফলে অঙ্কুরেই ঝরে পড়ে অনেক মেধাবী প্রাণ, দারিদ্রতায় নিষ্পেষিত হয়ে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যায় বহু স্বপ্ন।

হাসানাহ ফাউন্ডেশন চায়, বাংলাদেশের প্রতিটি শিশু সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠবে। সঠিক আদর্শ ও মূল্যবোধ নিয়ে বেড়ে উঠবে এদেশের আগামী প্রজন্ম। এই লক্ষ্য পূরণের অংশ হিসেবে ০৬ ই ডিসেম্বর, হাসানাহ ফাউন্ডেশন টিম পৌঁছে যায় মোড়েলগঞ্জের সেই দুর্গম গ্রামগুলোতে। অঞ্চলটির ১০ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (০৮ টি স্কুল ও ০২ টি মাদরাসা) ২৩০ জন সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয় এক বছরের প্রয়োজনীয় শিক্ষা-সহায়ক উপকরণ।


ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পথ সুগম করতে প্রদান করা হয়:

স্কুল ব্যাগ
কলম
পেন্সিল
ইরেজার
বড় নোট খাতা
জ্যামিতি বক্স
পেন বক্স

এছাড়া শিশুদের নৈতিক ও মানসিক বিকাশের কথা চিন্তা করে উপহার হিসেবে দেওয়া হয় দৈনন্দিন দুআ সম্বলিত ফ্ল্যাশ কার্ড এবং সীরাত বিষয়ক বই (ছোটদের নবি-রাসূল সিরিজ), যা তাদের মেধা ও মনন গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

শিক্ষাকে সহজলভ্য করে দেশের আনাচে-কানাচে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে একটি আদর্শবান সমাজ গঠনে হাসানাহ ফাউন্ডেশন টিম নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

শিক্ষা-সহায়ক উপকরণ বিতরণ

স্থান: শোলাগাড়ী গ্রাম, শিবগঞ্জ, বগুড়া | তারিখ: ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত এক গ্রাম শোলাগাড়ী। উত্তরবঙ্গের এই অঞ্চলটিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিশুদের ঝরে পড়ার হার অনেক বেশি। দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত বাবা-মা তাই অনেকক্ষেত্রেই নিজ সন্তানদের স্কুল-মাদরাসায় পাঠাতে আগ্রহী নন।

হাসানাহ ফাউন্ডেশন চায়, বাংলাদেশের প্রতিটি শিশু সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠবে। সঠিক আদর্শ ও মূল্যবোধ নিয়ে বেড়ে উঠবে এদেশের আগামী প্রজন্ম। এই লক্ষ্য পূরণের অংশ হিসেবে গত ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে হাসানাহ ফাউন্ডেশন টিম পৌঁছে যায় শোলাগাড়ী গ্রামে। অঞ্চলটির শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুর হাতে তুলে দেয় শিক্ষা-সহায়ক উপকরণ। ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ছোট্ট সোনামণিদের অন্তত এক শিক্ষাবর্ষ পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার মতো শিক্ষা-সহায়ক উপকরণ-কলম, খাতা, পেনসিল, স্কুল-ব্যাগ, জ্যামিতি বক্স ইত্যাদি প্রদান করা হয়। এ ছাড়া কুরআনের একটি করে মুসহাফ ও কচিকাঁচাদের উপযোগী বেশকিছু বই বিতরণ করা হয়, যা তাদের মেধা-মনন বিকাশে ভূমিকা রাখবে। হাসানাহ ফাউন্ডেশনের এ-উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন গোটা গ্রামবাসী। শিশুদের হাতে এসকল শিক্ষা-সহায়ক উপকরণ দেখে অভিভাবকরাও হয়েছেন আপ্লুত, মানসিক সমর্থন পেয়েছেন সন্তানদেরকে পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে।

প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ দেশের আনাচে এ-ধরনের শিক্ষা-সহায়ক কার্যক্রম চলমান রাখতে হাসানাহ ফাউন্ডেশন টিম নিরলসভাবে কাজ করে যাবার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

কুরআন অলিম্পিয়াড - ২০২৬

কুরআনের তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার মহতী লক্ষ্যে

তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে পবিত্র কুরআনের তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে এবং তাদের চারিত্রিক ও নৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে ‘কুরআন অলিম্পিয়াড’-এর মতো ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, কুরআনের চিরন্তন শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে যথাযথভাবে ধারণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমেই একটি আদর্শ, নৈতিক ও আলোকিত সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব। 

আল-কুরআন কেবল তিলাওয়াতের গ্রন্থ নয়, এটি মানবজীবনের পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন। এই অলিম্পিয়াডের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো— কুরআনের জ্ঞানকে শুধু পাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা নয়, বরং নিজেদের আত্মোপলব্ধি জাগিয়ে তুলতে কুরআনিক জ্ঞানকে কাজে লাগানো। যাতে করে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র তথা জীবনের সর্বস্তরে আসমানি  হিদায়াতের আলো ছড়িয়ে দেওয়া যায়। 

আর সে লক্ষ্যেই ‘সিরাত অলিম্পিয়াড’-এর ধারাবাহিকতায়, কুরআনের চিরন্তন শিক্ষাকে জনমানুষের হৃদয়ে প্রোথিত করতে ও কুরআনের অর্থ কে জনসাধারণের কাছে বোধগম্য করে তুলতে আয়োজন করা হয় “কুরআন অলিম্পিয়াড – ২০২৬”।    বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার প্রায় ১৫ হাজার প্রতিযোগী এতে অংশগ্রহণ করেন। সিরাত অলিম্পিয়াডের মতোই তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয় এই প্রতিযোগিতা। প্রত্যেক গ্রুপ চ্যাম্পিয়নকে ১ লক্ষ টাকা সহ অন্যন্যদের  ল্যাপটপ, ট্যাব, ক্রেস্ট, মহামূল্যবান বই ও সার্টিফিকেট মিলিয়ে বিজয়ীদের জন্য সর্বমোট ১০ লক্ষ টাকার পুরস্কার প্রদান করা হয়। 

উৎসবমুখর পরিবেশে রাজধানীর ফার্মগেটস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (KIB)-এ বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে দিয়ে তাদের হাতে এসব পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

সিরাত অলিম্পিয়াড - ২০২৫

রাসূলের আদর্শে প্রজন্মকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে

সমাজকে আলোকিত করতে হলে, আলোকিত মানুষদের অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই। আর নিঃসন্দেহে, পৃথিবীর সবচেয়ে আলোকিত ও পরিশুদ্ধ মানুষ মুহাম্মাদ ﷺ। নবিজিকে অনুকরণ-অনুসরণ করতে চাইলে সবার আগে তাঁকে নিয়ে স্টাডি করা চাই। তাঁর মহান জীবনী বারংবার চর্চার মধ্য দিয়েই মিলবে আলোকিত পথের দিশা।

বাংলাদেশের তরুণ-যুবা নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের কাছে সিরাত চর্চার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে সচেষ্ট ভূমিকা রাখছে হাসানাহ ফাউন্ডেশন৷ সম্প্রতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে সিরাত অলিম্পিয়াড-২০২৫। যেখানে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় বিশ হাজার নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। অনলাইন-অফলাইন মিলিয়ে তিনটি ধাপে অলিম্পিয়াডের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। নবিজির জীবনীকে ছড়িয়ে দেবার মহতী এই আয়োজনকে পূর্ণতা দিতে, প্রতিযোগিতার ফাইনাল রাউন্ডে সকল প্রার্থী স্বশরীরে অংশ নিয়েছেন। উৎসবমুখর পরিবেশে তারা প্রতিযোগিতা-স্থলে এসেছেন, উপস্থাপন করেছেন রাসূল-এর জীবনী।

রাসূলের আদর্শে প্রজন্মকে গড়ে তুলতে ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হাসানাহ ফাউন্ডেশন এ-ধরনের শিক্ষাকার্যক্রম অব্যাহত রাখবে, ইন শা আল্লাহ।